
পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘বছরে এক লক্ষ কোটি টাকা ধার শোধ করতে চলে যাচ্ছে। সেই টাকা থাকলে আরও উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো সম্ভব হত।’’
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৪
পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ হবে। এমনই ‘প্রতিশ্রুতি’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডানকুনিতে একটি হোসিয়ারি সংস্থার কারখানা সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর আগে বিদেশি বিনিয়োগের কথা বলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শুধু বাংলা বা অন্য রাজ্যের শিল্পপতিরা নন, এখানে বিদেশি বিনিয়োগ হবে। এফডিআই (প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি) আসবে। শমীকদা সেই স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আর দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন।’’
পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নে খরা চলছিল বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘এই রুক্ষতা বা খরা শুধু গত ১৫ বছরে হয়নি, আগের ৩৪ বছরের বাম আমল থেকে চলছে। সেই খরা কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আপনারা ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন। বাংলা আবার বিনিয়োগে ভারত সেরা হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, শিল্পের পরিবেশ উন্নত করতে গেলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে বিজেপি সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘তোলাবাজি, কাটমানির সংস্কৃতি থেকে অনেকটা বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’’
পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘বছরে এক লক্ষ কোটি টাকা ধার শোধ করতে চলে যাচ্ছে। সেই টাকা থাকলে আরও উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো সম্ভব হত।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যে উন্নয়নের জন্য রাজস্ব বৃদ্ধির প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গে যত বেশি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, বিনিয়োগ হবে, তত বেশি রাজস্ব ঢুকবে সরকারের কোষাগারে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাকে আবার দেশের অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।’’
শুভেন্দু জানান, শিল্পপতি বা বিনিয়োগকারীদের যাতে পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে কোনও অসুবিধা না-হয়, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের। তাঁর সরকার সেই কাজই করছে। নতুন জমি নীতির মাধ্যমে শিল্প স্থাপনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যে সব সংস্থা বা শিল্পপতি রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে চান, তাঁরা যাতে সহজে অনুমোদন পান, তার ব্যবস্থা করবে সরকার। শিল্প প্রসারের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বাজেটও রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘বড় শিল্প এলে বেকারত্ব কমবে, কৃষকদের আয় বাড়বে এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।’’
রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়ে বলতে গিয়ে একটি ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘শুধু সরকারি চাকরি দিয়ে বেকারত্ব দূর করা যায় না। তার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন। এ ছাড়াও আমরা চাই রাজ্যে লক্ষ লক্ষ ভাল ব্যবসায়ী তৈরি করব। তার জন্য সরকারের তরফে কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে।’’