উপড়ে ফেলা হবে বেআইনি মদ, গাঁজার ঠেক! বারুইপুরের ঘটনা টেনে পুলিশকে দু’সপ্তাহের সময় বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতা বালিকার পরিবার এবং গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ১৫:০১

রাজ্য জুড়ে বেআইনি মদ এবং গাঁজার ঠেকের বিরুদ্ধে পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার নেপথ্যে এই মদের ঠেকগুলির বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন তিনি। গ্রামগঞ্জ থেকে এগুলিকে উপড়ে ফেলার ডাক দিয়েছেন। এই ধরনের ঠেকের হদিস কারও কাছে থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বানও জানিয়েছেন শুভেন্দু।
শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতা বালিকার পরিবার এবং গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। দুই পরিবারের পাশে থাকারই বার্তা দিয়েছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘সব কিছুর কার্য-কারণ থাকে। যে জঘন্য অপরাধ হয়েছে, আমি মনে করি, তার পিছনে বেআইনি মদের ঠেক, বেআইনি গাঁজা, চরস, মাদকের বড় ভূমিকা আছে। আপনারা পুলিশকে এগুলো জানান।’’
শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। তাঁদের সামনেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি ডিজিপি-কে বলব, আগামী দু’সপ্তাহ রাজ্য জুড়ে বিশেষ অভিযান চালান। ব্যাটেলিয়নে থাকা লোকজনকে বিশেষ অভিযানে লাগান, সিও-দের এক-একটা জেলা দিয়ে দিন। রাজ্যে যত বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা বা চরসের ঠেক আছে, তার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে।’’ সীমান্ত এলাকায় রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর তরফে প্রতি দিনই এই ধরনের বেআইনি ঠেকের বিরুদ্ধে অভিযান, ধরপাকড় চলছে, জানিয়েছেন শুভেন্দু। তবে গ্রামগঞ্জেও সেই তৎপরতা দেখতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে রেকি করে প্রতি দিনই ধরপাকড় হচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ এলাকা থেকেও এটা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা দরকার। যাতে এই সামাজিক দূষণ থেকে আমরা পরিবেশকে বাঁচাতে পারি।’’
শনিবার গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া, নিহতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সূর্যপুরে যে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করা হল, সেখানেই তাঁকে বহাল করা হয়েছে। এ ছাড়া, শুভেন্দু জানান, নির্যাতিতা বালিকার পরিবারকেও সাহায্য করা হয়েছে। তবে তা তিনি নিজে বলতে চান না। পরিবার যদি মনে করে, সংবাদমাধ্যমে বলতে পারে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনেই এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।
‘বিদেশি বিনিয়োগ আসবে’! শমীকের কথা টেনে স্বপ্নপূরণের প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর, শোনালেন ত্রিস্তরীয় কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা
পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘বছরে এক লক্ষ কোটি টাকা ধার শোধ করতে চলে যাচ্ছে। সেই টাকা থাকলে আরও উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো সম্ভব হত।’’
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৪
পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ হবে। এমনই ‘প্রতিশ্রুতি’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডানকুনিতে একটি হোসিয়ারি সংস্থার কারখানা সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর আগে বিদেশি বিনিয়োগের কথা বলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্যের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শুধু বাংলা বা অন্য রাজ্যের শিল্পপতিরা নন, এখানে বিদেশি বিনিয়োগ হবে। এফডিআই (প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি) আসবে। শমীকদা সেই স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আর দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন।’’
পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নে খরা চলছিল বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘এই রুক্ষতা বা খরা শুধু গত ১৫ বছরে হয়নি, আগের ৩৪ বছরের বাম আমল থেকে চলছে। সেই খরা কাটিয়ে ওঠার সময় এসেছে।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আপনারা ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন। বাংলা আবার বিনিয়োগে ভারত সেরা হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, শিল্পের পরিবেশ উন্নত করতে গেলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে বিজেপি সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘তোলাবাজি, কাটমানির সংস্কৃতি থেকে অনেকটা বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’’
পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘বছরে এক লক্ষ কোটি টাকা ধার শোধ করতে চলে যাচ্ছে। সেই টাকা থাকলে আরও উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো সম্ভব হত।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যে উন্নয়নের জন্য রাজস্ব বৃদ্ধির প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গে যত বেশি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, বিনিয়োগ হবে, তত বেশি রাজস্ব ঢুকবে সরকারের কোষাগারে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাকে আবার দেশের অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।’’
শুভেন্দু জানান, শিল্পপতি বা বিনিয়োগকারীদের যাতে পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে কোনও অসুবিধা না-হয়, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের। তাঁর সরকার সেই কাজই করছে। নতুন জমি নীতির মাধ্যমে শিল্প স্থাপনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যে সব সংস্থা বা শিল্পপতি রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে চান, তাঁরা যাতে সহজে অনুমোদন পান, তার ব্যবস্থা করবে সরকার। শিল্প প্রসারের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বাজেটও রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘বড় শিল্প এলে বেকারত্ব কমবে, কৃষকদের আয় বাড়বে এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।’’
রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়ে বলতে গিয়ে একটি ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘শুধু সরকারি চাকরি দিয়ে বেকারত্ব দূর করা যায় না। তার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন। এ ছাড়াও আমরা চাই রাজ্যে লক্ষ লক্ষ ভাল ব্যবসায়ী তৈরি করব। তার জন্য সরকারের তরফে কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে।’’

শুভেন্দু জানান, কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে রাজ্যে জমির সমস্যা হবে না। ছাড়পত্র বা অনুমোদনের জন্য ঘুরতে হবে না বিভিন্ন দুয়ারে। কেন্দ্রীয় ভাবে জমি সমস্যা মেটানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর। শুভেন্দুর আগে ওই মঞ্চে বক্তৃতা করতে গিয়ে বৈদেশিক বিনিয়োগের কথা বলেন শমীক। তাঁর কথায়, ‘‘ বাংলায় বৈদেশিক বিনিয়োগ ০.৬ শতাংশ। তবে তা বাড়বে। আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব এসেছে আমাদের কাছে।’’ তাঁর আশ্বাস, ‘‘নিশ্চিত থাকুন, টাটা থেকে বাটা, রিলায়্যান্স থেকে আদানি সবাই আসবে। ইজ়য়ারেল থেকে বিনিয়োগ হবে, সিলিকন ভ্যালি থেকে বিনিয়োগ হবে। মিউনিখ থেকে বিনিয়োগ হবে। সারা পৃথিবীর শিল্পপতিরা, অনাবাসী ভারতীয়েরা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আসবেন।’’ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও বিনিয়োগের কথা বলেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলায় আবার শিল্পের জোয়ার ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। অতীতে রাজ্য ছেড়ে যাওয়া শিল্পপতিদেরও প্রয়োজনে অনুরোধ করে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন শিল্প গড়ে উঠলে রাজ্যের শ্রমিকদের আর কাজের খোঁজে বাইরে যেতে হবে না।’’
উল্লেখ্য, দিন তিনেক আগে জাপানি বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিশির কর্তাদের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট গড়তে চায় মিৎসুবিশি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেই বৈঠকের পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে বিদেশি বিনিয়োগের কথা শোনা গেল।