হাসিনাকে আগেই ফাঁসির সাজা দিয়েছে বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল। এ বার জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন চিফ প্রসিকিউটর।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ২৩:০৩

শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, ডিসেম্বরে তিনি নিজ দেশে ফিরবেন। তার পর থেকেই বাংলাদেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেত্রী ঢাকায় ফিরলে প্রশাসনের কী পদক্ষেপ হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় হাসিনার ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এই ট্রাইবুনালই গত বছর হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঢাকায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর। সেখানে হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ডিসেম্বরে আসবেন, জানুয়ারিতে আসবেন—এটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আপনাকে তো আমরা কালকেই চাই।” বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দেন আমিনুল। আওয়ামী লীগ নেত্রীর উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, “কোনও স্টান্টবাজি করবেন না। এখানে আর কোনও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবেন না।”
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশ ছেড়়ে ভারতে চলে আসেন হাসিনা। এ দেশে আশ্রয় নেন। হাসিনার অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের আদালতে মামলা চলে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ফাঁসির সাজা দেয়। ভারতে বসে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার বক্তৃতার সময়ে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ জনতাকে হতাশ না পরামর্শ দেন আমিনুল। তিনি আশ্বস্ত করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কাজে আরও গতি এসেছে। তাঁর কথায়, “বিচারের প্রশ্নে হতাশ হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলন দমন করতে হাসিনার সরকার যে কঠোর নীতি প্রয়োগ করেছিল, তাতে ১৪০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় শুধু হাসিনা বা তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারাই নন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। আমিনুল জানান, এই নিয়েও তদন্ত চলছে এবং বর্তমানে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।